রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের গুঁড়িয়ে দেওয়া কার্যালয়ের সামনে টানানো একটি রহস্যময় ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার ঘিরে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। ২৮ (ফেব্রুয়ারি) শনিবার দুপুরে নগরের কুমারপাড়া এলাকায় ওই ব্যানারটি ছিঁড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েক দফা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এই প্রধান কার্যালয়টি। দীর্ঘ দিন ধ্বংসস্তূপ হিসেবে পড়ে থাকা সেই জায়গাতেই শুক্রবার দিবাগত রাতে কে বা কারা একটি ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার টাঙিয়ে দিয়ে যায়। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন মহানগর বিএনপির বোয়ালিয়া পশ্চিম কমিটির সভাপতি শামসুল আলম মিলু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। তারা ব্যানারটি টেনে নামিয়ে ফেলেন এবং রাস্তায় নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মহানগর বিএনপির নেতা শামসুল আলম মিলু বলেন:
“একটি অস্তিত্বহীন কার্যালয়ের সামনে রাতের অন্ধকারে ব্যানার টানিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে সেটি অপসারণ করেছি এবং পুড়িয়ে দিয়েছি।”
ব্যানারটি কারা লাগিয়েছে তা শনাক্ত করতে আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ফুটেজে কয়েকজনকে ব্যানারসহ এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেলেও তাদের চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি ব্যানারটি টাঙিয়ে রেখে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরবর্তীতে সেটি পুড়িয়ে ফেলার খবরও পুলিশ পেয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।