বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
জমির ধান বিক্রি করে চাল কিনছেন কৃষকরা

তানোরে বিলুপ্ত পথে ধানের গোলা ও মিল

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি

published: 11 July, 2025, 10:44 PM

তানোরে বিলুপ্ত পথে ধানের গোলা ও মিল

রাজশাহীর তানোরে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ ধানের গোলা ও ধান ভাঙানোর মিল এখন প্রায় বিলুপ্ত। ফলে, কৃষকদের জমি থেকেই ধান বিক্রি করে বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হচ্ছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়াচ্ছেন।

একসময় তানোরের প্রতিটি গৃহস্থের বাড়িতে দেখা যেত ধান রাখার গোলা। মহল্লায় মহল্লায় ছিল ধান ভাঙানোর ছোট-বড় মিল। একই সঙ্গে অনেক বাড়িতেই ছিল ঠেঁকি (ধান ও আটা কোটার যন্ত্র)। কৃষকরা গোলায় ধান মজুত রাখতেন, প্রয়োজন হলে বের করে চাল বানিয়ে খেতেন বা বাজারে বিক্রি করতেন। এখন এই চিত্র আর তেমন দেখা যায় না।

কৃষকরা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়া, জায়গার সংকট এবং মিল না থাকার কারণে তারা ধান গোলায় রাখার রীতি ছেড়ে দিয়েছেন। কালের আবর্তে ধান সংরক্ষণের জায়গা হারিয়ে যাওয়ায় জমি থেকে সরাসরি ধান বিক্রি করে বাজার থেকে বস্তাবন্দী চাল কিনছেন তারা। ফলে, কৃষকের ঘরে আর তেমন ধান বা চাল মজুত থাকে না। অথচ একসময় গোলাভরা ধান সচ্ছলতা ও সম্মানের প্রতীক ছিল। বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের ধানের গোলা ও খড়ের পালা দেখে কন্যার পরিবার মত দিত। এখন মাঠে সোনালি ধান থাকলেও নেই গোলা, নেই খৈলান ভরা খড়।

তানোরের গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক ধানের গোলা, খড়ের পালা, ধান ভাঙানো মিল ও ঠেঁকি ৯০-এর দশকের পর থেকে ক্রমশ বিলুপ্ত হতে থাকে। আগে বাঁশ আর কাদা-মাটি দিয়ে গোলা তৈরি করে কৃষকরা ধান মজুত করতেন। কিন্তু আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি ও জায়গা সাশ্রয়ের কারণে কৃষকরা এই পদ্ধতি ছেড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তানোর সদর গ্রামের খোদাবক্স মেম্বারের ছেলে মনজুর রহমান বলেন, “আমাদের বাড়ির উঠানে ছোট-বড় কয়েকটি ধানের গোলা আর বিশাল খড়ের পালা ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইয়েরা আলাদা সংসার করায় সেগুলো আর রাখা হয়নি। এখন ধান কাটার পরপরই জমি থেকেই বিক্রি করে দিই। বাজারের অটো মিলের চাল খাই।”

ধানতৈড় গ্রামের আদর্শ কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, “ভাইদের সংসার আলাদা করার সময় ধানের গোলা ভেঙে ফেলা হয়। এখন আর গোলা নেই।”

ধানতৈড় গ্রামের আরেক বাসিন্দা ও মদিনা ফার্মেসির মালিক আবু তালহা রানা বলেন, “আমাদের বাড়িতে ধানের গোলা এখনো আছে, কিন্তু ব্যবহার হয় না। সব জমি চুক্তিতে লিজ দেওয়া। বাজার থেকে বস্তাবন্দী চাল কিনেই খাই।”

গোল্লাপাড়া মহল্লার ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, “আগে প্রতিটি গৃহস্থের বাড়িতেই ধানের গোলা, ঠেঁকি আর খড়ের পালা দেখা যেত। গ্রামে গ্রামে ছিল ধান ভাঙানোর মিল। এখন সেসব আর নেই। ধানের গোলা আর এর ব্যবহার এখন ইতিহাস হয়ে গেছে।”

National