বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

রেশনিং উঠলেও মিলছে না জ্বালানি, সেচ দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় কৃষক

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

published: 17 March, 2026, 04:50 PM

রেশনিং উঠলেও মিলছে না জ্বালানি, সেচ দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় কৃষক

পবিত্র ইদুল ফিতরকে সামনে রেখে সারা দেশে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (১৬ মার্চ) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের এক দিন পেরিয়ে গেলেও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্বাভাবিক হয়নি জ্বালানি সরবরাহ। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ মানুষ।




আর সেচের জন্য ডিজেল না পেয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি চলবে। তবে কেউ এই সুযোগে জ্বালানি তেল মজুত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।




কিন্তু বাস্তবে রাজশাহীর অনেক ফিলিং স্টেশনে এখনো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও তেল না পেয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে চালকদের। ফলে যেসব পাম্পে জ্বালানি রয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। ধৈর্যচ্যুতি থেকে মাঝে মধ্যেই ঘটছে বাকবিতণ্ডা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে পবা উপজেলার বায়া ভূগরোইল, নওহাটা বাজার, শাহ মখদুম বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা ও নগরীর গুল গফুর পেট্রোল পাম্পসহ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি নিতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।




নওহাটা বাজার এলাকার রুচিতা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক শাহিন মিয়া বলেন,“প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাইকে জ্বালানি না থাকলে অফিসের কাজে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়েই অপেক্ষা করছি।” তিনি জানান, কয়েক দিনের তুলনায় লাইনের চাপ কিছুটা কমলেও এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। রাজশাহী জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অধিকাংশ পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি মিলছে না।




পাম্প মালিকদের দাবি, তাদের প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে অনেক পাম্পই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সেচ পাম্প চালাতে ডিজেল না পেয়ে অনেক জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




পবা উপজেলার চরখানপুর থেকে নগরীর গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন,“ধানের জমিতে পাঁচ-ছয় দিন ধরে পানি দিতে পারিনি। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে পাম্পে ঘুরেও তেল পাইনি। পাম্পে এসে বলছে, কাল ছাড়া তেল হবে না। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।” তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কৃষকদের আশঙ্কা, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

National

সারাদেশ আরোও দেখুন