-- ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুল হক জহির
হায়রে ফেসবুক,
তুই আধুনিক যুগের জাদুকর,
অদৃশ্য তারে বেঁধে ফেলেছিস সমগ্র পৃথিবীকে।
তোর দেয়ালে আঁকা থাকে
মানুষের প্রতিটি দিনলিপি,
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ,
সবই যেন তোর আঙুলে নৃত্যরত শব্দের মেলা।
তুই জানিস-
কে ভোরে চা খায়,
কে দুপুরে ভাত খায়,
কে রাত জাগে প্রেমে,
কে ভোর গোনে অশ্রুতে।
তোর কাছে কিছুই গোপন নয়,
তুই সর্বজ্ঞানের ভাণ্ডার আবার সর্বভ্রান্তির উৎসও বটে।
হায়রে ফেসবুক,
তুই এক আয়না,
যেখানে মানুষ আঁকে সাজানো হাসি,
লুকিয়ে রাখে অন্তরের ক্ষত।
তুই বানিয়েছিস ভান আর ভণ্ডামির রঙিন মঞ্চ,
যেখানে সত্য হারিয়ে যায়,
মিথ্যে হয়ে ওঠে রাজসিংহাসনের অধিকারী।
তোর বাজারে মানুষ বিক্রি করে নিজেকে-
লাইক-শেয়ারের মুদ্রায়,
কমেন্টের প্রশংসায়,
অচেনা ভিড়ের করতালিতে।
মানুষ ভুলে যায়-
ভালোবাসা সংখ্যার মাপকাঠিতে নয়,
হৃদয়ের গভীরতায় তার ঠিকানা।
তবু তুই আশীর্বাদও,
তোর দ্বার খুলে যায় জ্ঞানের ভুবন,
অচেনা মানুষ হয়ে ওঠে বন্ধু,
হারানো সম্পর্ক ফিরে পায় নতুন আলোর সেতু।
তুই লিখিস প্রতিবাদের ইতিহাস,
তোর পাতায় ভেসে আসে বিপ্লবের গান,
মানুষ খুঁজে পায় স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।
হায়রে ফেসবুক,
তুই যুগের অদ্ভুত দ্বন্দ্ব-
তুই যেমন আলোর প্রদীপ,
তেমনি অন্ধকারের গহ্বর।
তোর মঞ্চে সবাই অভিনেতা,
কেউ দর্শক নয়-
প্রতিটি হাসি, প্রতিটি ছবি, প্রতিটি শব্দ
একেকটি মুখোশ, একেকটি নাটক।
তবু মানুষ তোরই বুকে ঢেলে দেয় অন্তরের কথা,
মনের কান্না, আকাঙ্ক্ষা, প্রার্থনা-
যেন তুই-ই একমাত্র সঙ্গী,
যাকে কিছুই গোপন করা যায় না।
হায়রে ফেসবুক,
তুই আধুনিক যুগের দার্শনিক আয়না-
যেখানে মানুষ খুঁজে পায় নিজেকে,
আবার হারায় নিজেকেই।
তুই স্মৃতির খাতা,
তুই ইতিহাসের সিন্দুক,
তুই ভবিষ্যতের সতর্কবার্তাও।
হায়রে ফেসবুক,
তুই এক চিরন্তন প্রশ্ন-
মানুষ কি তোকে নিয়ন্ত্রণ করছে,
না কি তুই-ই নিয়ন্ত্রণ করছিস মানুষকে?
লেখক: ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও কবি
কনসালট্যান্ট : এক্স এসিডিআই.ভোকা-ইউএসএইড, এসএমই ফাউন্ডেসন্স, টিজিএল ইন ভ্যালু এডেড ডেইরি প্রোডাক্টস।