রাজশাহী মহানগরীর ভদ্রা এলাকায় এক লোমহর্ষক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে খোদ রিকশাচালকই ধারালো চাকুর মুখে জিম্মি করে কেড়ে নিল এক প্রবাসগামী নারীর আজীবনের লালিত স্বপ্ন। সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভদ্রা ফ্লাইওভারের নিচে এই ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইকারীর কবলে পড়া ভুক্তভোগী রিপা বেগমের বিদেশ যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু পাসপোর্ট, ভিসা ও নগদ টাকাসহ সব হারিয়ে তিনি এখন পথে বসার উপক্রম।
রিপা বেগম জানান, সৌদি আরব যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা থেকে মেডিকেল চেকআপ শেষ করে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র নিয়ে রাতের বাসে রাজশাহী ফেরেন তিনি। নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে নেমে নিজ বাড়ি দায়রাপাড়ার উদ্দেশ্যে একটি রিকশায় ওঠেন। কিন্তু ভদ্রা ফ্লাইওভারের নির্জন এলাকায় পৌঁছামাত্রই রিকশাচালক তার আসল রূপ ধারণ করে।
হঠাৎ রিকশা থামিয়ে রিপার গলায় ধারালো চাকু ধরে ওই চালক। প্রাণের ভয়ে নিজের সর্বস্ব তুলে দিতে বাধ্য হন এই নারী। রিপা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
"সে যেন রিকশাচালক নয়, সাক্ষাৎ যমদূত হয়ে এসেছিল। গলায় চাকু ঠেকিয়ে বললো— 'টাকা-পয়সা যা আছে সব দিয়ে দে'। আমার কাছে থাকা পাসপোর্ট, ভিসা আর টাকাগুলো নিয়ে ও মুহূর্তে হাওয়া হয়ে গেল। আমার স্বপ্নগুলো সব চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল।"
ঘটনার পরপরই টহলরত মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কিছু দূরে পড়ে থাকা রিপা বেগমের কাপড়ের ব্যাগটি উদ্ধার করে। তবে ব্যাগের ভেতর থাকা মহামূল্যবান পাসপোর্ট, ভিসা ও নগদ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
রিপা বেগম প্রশাসনের কাছে আর্তনাদ করে বলেন, “আমার পাসপোর্ট আর ভিসা না পেলে আমার সৌদি আরব যাওয়া হবে না। আমার সব শেষ হয়ে যাবে। আমি আমার কাগজপত্রগুলো ফেরত চাই।”
ঘটনাটি চন্দ্রিমা ও মতিহার থানা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীকে শনাক্ত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সোর্সদের কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত রিকশাচালককে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে রাতের শহরে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিকশাচালকদের ডাটাবেজ বা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।