বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
আঙ্গুলের ছাঁপ, আল-কুরআন ও বিজ্ঞান

ফিঙ্গার প্রিন্ট, আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের ভাষ্য

আল-কুরআন ও বিজ্ঞানের ভাষায় ফিঙ্গার প্রিন্ট
Alif Bin Reza

Alif Bin Reza

published: 12 March, 2025, 07:11 AM

ফিঙ্গার প্রিন্ট, আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের ভাষ্য

ফিঙ্গার প্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) হলো আঙুলের ডগার চিহ্নের সাহায্যে পাওয়া তথ্য, যা কোনো পদার্থে আঙুল দ্বারা স্পর্শ করলে সৃষ্টি হয়। মানবদেহের আঙুলের ছাপকে একজন ব্যক্তির পুরো ডাটা ব্যাংক বলা হয়। এর অর্থ হলো এক বা একাধিক বিষয়ে তথ্যের ভাণ্ডার। মানুষের ত্বকের ‘ইকরিন গ্ল্যান্ডস’ থেকে নিঃসৃত ঘাম হলো এর মূল রহস্য।

এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ডারমাটোগ্লিফিক্স’।
আঙুলের ছাপের সংমিশ্রণে রয়েছে জৈব ও অজৈব উপাদান। জৈব উপাদানে রয়েছে অ্যামিনো এসিড, প্রোটিন, গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ, ইউরিয়া, পাইরুভেট, ফ্যাটি এসিড ও স্টেরল। অন্যদিকে অজৈব উপাদানে রয়েছে ক্লোরাইড, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও আয়রন।

সাধারণত ওষুধে পাওয়া তেল, প্রসাধনী, এমনকি খাদ্যের অবশিষ্টাংশ আঙুলের ছাপ তথা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে। বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ব্যক্তির স্বাক্ষর, ফরেনসিক, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ তার মধ্যে অন্যতম।
১৬ শতকের শেষ দিকে ইউরোপীয় শিক্ষাবিদরা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আঙুলের ছাপ অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন।

এরপর ১৬৮৬ সালে বিজ্ঞানী মার্সেলো মালপিঘি পৃষ্ঠের ওপর রেখে যাওয়া আঙুলের ছাপগুলোতে শিলা, সর্পিল ও লুপ শনাক্ত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৭৮৮ সালে জার্মান অ্যানাটমিস্ট জোহান ক্রিস্টোফ আন্দ্রেয়াস মায়ার, যিনি প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে আবিষ্কার করেন যে ‘আঙুলের ছাপ প্রতিটি ব্যক্তির জন্য অনন্য।’ এরপর ১৮৮০ সাল থেকে গবেষণা শুরু করে ১৮৯২ সালে দুজন বিজ্ঞানী স্যার হেমচন্দ্র বসু এবং আজিজুল হক আবিষ্কার করেন ‘পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যে যার আঙুলের ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে।’

বর্তমানে অপরাধ তদন্তের জন্য এখন গোটা বিশ্বে বিজ্ঞানী স্যার হেমচন্দ্র বসু, আজিজুল হক এবং স্যার এডওয়ার্ড হেনরি দ্বারা বিকশিত হেনরি শ্রেণিবিন্যাসব্যবস্থা হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক থেকে একাধিক অনুসন্ধানের জন্য শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাজানো হয়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো আধুনিক বিজ্ঞান-পূর্ব যুগে অর্থাৎ এই আবিষ্কারের শত শত বছর আগে পবিত্র কোরআন এই আঙুলের ছাপ তথা ফিঙ্গারপ্রিন্ট থিওরির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অবিশ্বাসীরা একসময় পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করত আর নিজেরা হাসি-তামাশা করে বলত, ‘আমরা মরে গেলে আমাদের শরীরের সব কিছুই তো মাটির সঙ্গে মিশে যাবে, তাহলে আল্লাহ আমাদের অস্থিমজ্জাগুলো আবার কিভাবে একত্র করবেন? এটা সম্ভব নয়।’
মহান আল্লাহ অবিশ্বাসীদের পুনরুত্থান বিষয়ে সেই সন্দেহের বক্তব্য পবিত্র কোরআনে তুলে ধরেছেন : ‘এবং তারা বলে, আমরা (মৃত্যুর পর) হাড্ডিতে পরিণত হয়ে পচে গেলেও কি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরায় উত্থিত হবো?’

-(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৪৯)

অবিশ্বাসীরা আরো বলত, যা কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে : ‘এ হচ্ছে তাদের (যথার্থ) শাস্তি, কেননা তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত, তারা আরো বলত (মৃত্যুর পর) যখন আমরা অস্থিতে পরিণত হয়ে যাব ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাব, তখনো কি আমরা নতুন
সৃষ্টিরূপে উত্থিত হব?’

-(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯৮)

অবিশ্বাসীদের ভ্রান্ত ধারণা ও হাসি-তামাশার জবাবে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘মানুষ কি ধরে নিয়েছে, (সে মরে গেলে) আমি তার অস্থিমজ্জাগুলো আর কখনো একত্র করতে পারব না? নিশ্চয়ই (আমি তা পারব) আমি তো বরং তার আঙুলের গিরাগুলোও পুনর্বিন্যস্ত করে দিতে পারব।’
-(সুরা : আল-ক্বিয়ামাহ, আয়াত : ৩-৪)

লেখক : শিক্ষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (জেইএসসি),
যশোর সেনানিবাস, যশোর 

National