রাজশাহীর দুর্গাপুরে “জিয়া স্মৃতিসংঘ ক্লাব” ভাংচুর করে শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভাংচুর নিয়ে একে অপরকে দায়ী করেছেন।
২০ অক্টোবর (সোমবার) রাত ৯ টার দিকে উপজেলা নওপাড়া ইউপির ১ নং পালশা ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র মতে, ঘটনার দিন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী লন্ডন প্রবাসী রেজাউল করিমের একটি সভা পালশা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্যরা রেজাউল করিমের পিতা আজগর আলীকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে অনুষ্ঠানে বয়কটের ঘোষণা দেন। এনিয়ে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী জুলাফার নাইম মোস্তফার অনুসারী ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিমের অনুসারীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়। যার প্রেক্ষিতে ক্লাব ও ছবি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে জিয়া স্মৃতিসংঘ ক্লাবের সভাপতি লিলতাব হোসেন (লিটন) জানান, বিএনপির প্রয়াত নেতা দুই বারের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তাফা ক্লাব তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমরা জুলফার নাইম মোস্তফাকে দিয়ে ক্লাবটি উদ্ভোধন করানোর লক্ষ্যে তালাবদ্ধ রেখেছিলাম । গতকাল ব্যারিস্টার রেজাউল করিমের সভা ছিলো পালশা মাঠে। সেখানে আমাদের দাওয়াত করা হয়েছিলো। কিন্তু ব্যারিস্টার রেজাউল করিমের পিতা পূর্বে আওয়ামী লীগের যোগদান করেছিলেন। সেইজন্য উক্ত সভায় আমরা অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকী। এরই সুত্র ধরে সভা শেষে, রাত ৯ টার দিকে রেজাউল করিমের সমর্থক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে রায়হানুল, নুর জামান, মানুন, নাদের, নজরুল, মতিন, বিপ্লব, মাহবুবুর, আনসার, জয়েন সহ প্রায় ৩০ জন হামলা চালায়। মরহুম প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন, খালেদা জিয়া, ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাংচুর করেছেন। এনিয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, দোয়া মহফিল শেষে ক্লাবের তালা খুলে ১০ পিস চেয়ার ভেতরে রেখে আমরা বাড়ি চলে এসেছি। পড়ে খবর পাই, লিটন, জাহাঙ্গীর, আলম, নেয়ামতের নেতৃত্বে চেয়ার ও ছবি ভাংচুর করেছেন। তাদের সাথে পূর্বে বরেন্দ্র ডিপ কল নিয়ে বিরোধ ছিলো। তাদের হামলায় আমি সহ ৩ জন আহত হয়েছিলাম। হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এরই সুত্র ধরে, আমাদের ফাঁসাতে ক্লাব ভাংচুর করেছেন প্রতিপক্ষরা। আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া রোগমুক্তির লক্ষে দোয়া মোনাজাত করেছি। আমার নেতাদের ছবি ভাংচুর করার কোনো যৌক্তিকতা আসেনা।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ক্লাব ভাংচুরের ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।