বাংলাদেশ, সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

মাহবুবুল আলম সানির অতীতের অবদান : ত্যাগী নেতার সংগ্রামী যাত্রা

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার

published: 29 September, 2025, 03:25 PM

মাহবুবুল আলম সানির অতীতের অবদান : ত্যাগী নেতার সংগ্রামী যাত্রা

রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) আগামী সেক্রেটারি পদপ্রত্যাশী মাহবুবুল আলম সানি ছাত্র রাজনীতির ময়দানে একজন ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে পরিচিত। বিগত স্বৈরাচারী আমলে তাঁর অবদান মূলত অবদমিত আন্দোলন-সংগ্রাম, তৃণমূল কর্মীদের সহায়তা এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সাম্প্রতিক কমিটি বিলুপ্তির পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে, যা তাঁর অতীতের কাজের স্বীকৃতি।


মাহবুবুল আলম সানি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের অধীন বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকে, যখন তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। বিএনপি-সমর্থিত এই ছাত্র সংগঠনে তিনি দ্রুত উঠে আসেন, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে। তাঁর নেতৃত্বে বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম শাখা একটি শক্তিশালী ইউনিটে রূপান্তরিত হয়, যা রাজশাহী মহানগরের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।


সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হলো স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার বিদ্রোহে, যা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটায়, সানি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি কর্মীদের নিয়ে রাজপথে নামেন, পুলিশি নির্যাতনের মুখোমুখি হন এবং সাধারণ কর্মীদের নেতৃত্ব দেন। তাঁর নির্দেশনায় অনেক কর্মী মাঠে অবতীর্ণ হয়ে লড়াই করেন, যা সংগঠনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কর্মীদের বর্ণনা অনুসারে, সানি শুধু নেতৃত্ব দেননি, বরং ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা প্রদান করেছেন। আন্দোলনের সময় পুলিশি হামলায় আহত বা নির্যাতিত কর্মীদের জন্য তিনি খোঁজখবর নিতেন, আর্থিক সাহায্য করতেন এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিতেন। "দুঃসময়ে তিনি আমাদের পাশে ছিলেন, যখন অনেক নেতা দূরে সরে যান," একজন তৃণমূল কর্মী বলেন। এই ত্যাগের কারণে তাঁকে 'কর্মীপ্রিয় নেতা' হিসেবে স্মরণ করা হয়।


আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে। সানিও এর বাইরে ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা তাঁর সংগ্রামী মনোভাবকে আরও দৃঢ় করেছে। তবু তিনি সাংগঠন ছেড়ে যাননি; বরং তৃণমূল কর্মীদের একত্রিত করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনে (২০২৩) তাঁর পরামর্শ এবং সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যদিও কমিটি সম্প্রতি বিলুপ্ত হয়েছে।


সানির অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাধারণ কর্মীরা তাঁকে 'যোগ্য রাজনৈতিক নেতা' বলে অভিহিত করেন। তাঁর চিন্তাধারা সর্বদা কর্মীকেন্দ্রিক—যা আন্দোলনের সময় থেকে প্রমাণিত। "তিনি আমাদের কথা প্রথমে চিন্তা করেন, যা একজন নেতার কাছে আশা করা যায়," একজন কর্মী বলেন। এই গুণের জন্যই আগামী কমিটিতে তাঁকে সেক্রেটারি হিসেবে দেখতে চান অনেকে।


সানি নিজে বলেন, "বিগত দিনের সংগ্রামে আমি কর্মীদের পাশে ছিলাম, এবং আগামী দিনে তাদের মর্যাদা ও মূল্যায়ন দেওয়াই আমার লক্ষ্য।" তাঁর এই অঙ্গীকার সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজশাহী ছাত্রদলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সানির অতীতের অবদান একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।

National

রাজনীতি আরোও দেখুন