অনলাইন ডেস্ক : published: ১২ মার্চ, ২০২৫, ০৩:৩৬ পিএম

কক্সবাজারের ভিআইপি এলাকা হিসেবে বিবেচিত সার্কিট হাউস এলাকায় মার্কিন নারীর শ্লীলতাহানির দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার তারেকুল ইসলাম ওরফে 'ছুইল্লা তারেক'। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারেক অকপটে তার অপরাধ স্বীকার করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার সকালে সার্কিট হাউস এলাকায় মার্কিন নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনার ৬ ঘণ্টা পর যুবক তারেকুল ইসলাম ওরফে 'ছুইল্লা তারেক'-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই সে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার কৃতকর্মের কথা স্বীকার করে আসছিল।
গত সোমবারের ঘটনার ব্যাপারে মার্কিন নারীর লিখিত এজাহার নিয়ে থানায় যথারীতি মামলা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার আসামি তারেকুলকে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিষ্ট্রেটের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।
আদালত ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার যুবক তারেকুল নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় দিয়ে জানায়, তারা তিন ভাইয়ের মধ্যে সে মেঝ। গত ৬ মাস ধরে রাজমিস্ত্রির সহকারি হিসাবে কাজ করছে সে। যথারীতি তারেকুল সেহরি খেয়ে রোজাও রেখেছে। ঘটনার দিন সোমবার সকাল ৮ টার দিকে সে শহরের হিলটপ সার্কিট হাউসের পাহাড়ে ওঠে। তখন সেখানে দুইজন বিদেশি নারীকে জগিং করতে দেখে।
তারেকুল নারীদ্বয়কে ফলো করে তাদের সামনে গিয়ে ‘হাই’ বলে। প্রতিউত্তরে এক নারী ‘হ্যালো’ বলেন। এরপর তারেক হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। নারীদের একজন হাত না বাড়িয়ে তাকে ধন্যবাদ জানান।
আসামি তারেকুল বলেন, এরপর সে তাদের পিছু নেয়। বিদেশি দুই নারী হাঁটতে থাকেন। পেছনে তারেকুলও। দুইজনের মধ্যে একজনকে বেশ ভাল লেগে যায় তার। তাই পেছন দিক দিয়ে তাকে ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করে তারেকুল। তখনই ওই নারী চিৎকার দেন। পাশে থাকা অপর নারী তখন তারেকুলকে মারতে উদ্যত হন। তখন সে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর তারেকুল শহরের ঝাউতলা এলাকার ফিসওয়ার্ল্ডে কাজ করতে যায়। পুলিশ বিকালে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। জবানবন্দির পর আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংস্থার কক্সবাজার অফিসে কর্মরত এক মার্কিন নাগরিকের স্ত্রী (তিনিও মার্কিন নাগরিক) তার এক সঙ্গীনীসহ গত সোমবার সকালে কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউসের পাহাড়ে জগিং (মর্নিং ওয়াক) করতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হন। এ ঘটনার পর থেকে শহরের ভিআইপি এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।