নিজস্ব প্রতিবেদক published: ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৪ এএম

পবিত্র রমজান মাসে সরকারি সেবা নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার বিপরীতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)-এর দুর্গাপুর শাখায় উন্মোচিত হয়েছে এক চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। রোববার (১৫ মার্চ) কর্মঘণ্টায় শাখা ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম সিরাজীর আয়েশি ঘুমের ছবি প্রকাশ পাওয়ায় ব্যাংকিং সেক্টরে নীতি-নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই ঘুম কেবল শারীরিক বিশ্রাম নয়, বরং এর আড়ালে প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের টাকা নিয়ে লুটপাট, বিমার নামে অবৈধ অর্থ আদায় এবং অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর নিয়মিত মানসিক নিগ্রহের এক ভয়াবহ বলয় তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে প্রকৃত ও অভাবী কৃষকদের পরিবর্তে উচ্চ হারের উৎকোচের বিনিময়ে প্রভাবশালী ও সামর্থ্যবানদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এই ব্যবস্থাপক। এছাড়া ঋণের বিপরীতে সরকার নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত অর্থ ‘ইন্স্যুরেন্স’ বা বিমার অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে কোনো বৈধ রসিদ মিলছে না। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবস্থাপককে জাগাতে গেলে তিনি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে উগ্র মেজাজে গ্রাহকদের অপমান ও লাঞ্ছিত করেন। কেবল জনহয়রানি নয়, নারী কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজে বাধ্য করা এবং প্রতিবন্ধী সহকর্মীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তিনি এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলেছেন।
এসব কর্মকাণ্ড সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক অফিস সময়ের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতিপূর্বে একাধিক কর্মস্থলে নারীঘটিত কেলেঙ্কারি ও মারধরের শিকার হওয়ার মতো গুরুতর রেকর্ড থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় তিনি বারবার প্রশাসনিক ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম সিরাজী কর্মঘণ্টায় ঘুমের বিষয়টি এড়িয়ে দাবি করেন, তিনি অসুস্থ বোধ করায় চোখ বন্ধ করে ছিলেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে কথা বলতে রাকাব রাজশাহী জোনাল ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মহব্বত আলী বিশ্বাসকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এছাড়া এমডি’স ভিজিলেন্স সেলের ডিজিএম বাবুল আক্তার সরদারের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষের কোনো ভাষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সচেতন মহলের দাবি, কেবল বদলি নয়, বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ অডিট ও সাময়িক বরখাস্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলাই এখন সময়ের দাবি।