মো.মনির হোসেন হোসেন বেনাপোল প্রতিনি published: ০৯ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

বেনাপোল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বড়আঁচড়া ঈদগাহ হতে চারাবটতলা পর্যন্ত দীর্ঘ ২ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি এখন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ড্রেনেজ নির্মাণের নামে রাস্তা খুঁড়ে দীর্ঘ ৬ মাস ফেলে রাখায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বেনাপোল পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলে রাস্তার একপাশ খুঁড়ে রাখা হয়। কিন্তু খোঁড়াখুঁড়ির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও রাস্তাটি সংস্কার বা ড্রেন নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
খুঁড়ে রাখা গর্তের কারণে নতুন এই পাকা রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ধসে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ২ কিলোমিটার এই পথে এখন রিকশা, ইজিবাইক বা জরুরি যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
রাস্তার পাশেই রয়েছে বিশাল কৃষি মাঠ। বর্তমানে বোরো মৌসুম চললেও রাস্তা খননের কারণে কৃষকরা জমিতে সার, কীটনাশক বা প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ নিয়ে যেতে পারছেন না। এমনকি উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়া বা ক্ষেতের পরিচর্যা করতে গিয়ে তাদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
চারাবটতলা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তা বেহাল হওয়ায় ক্রেতারা এই পথে আসতে চান না, ফলে তাদের জীবনযাত্রায় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
ঐ এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,
"পৌরসভা রাস্তা খুঁড়ে রাখার পর আর কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। আমরা বোরো ধানের আবাদ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। সার-বিষ নিয়ে জমিতে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।"
দীর্ঘ ৬ মাস পার হয়ে গেলেও কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জনবহুল এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মো. মোশারফ হোসেন বলেন,ড্রেনেজ প্রকল্পটির ডিজাইন উন্নত করার লক্ষে কিছুটা সময় বিলম্বিত হচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরই রাস্তা ও ড্রেনেজের কাজ দ্রুত শুরু হবে।