বাংলাদেশ, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
logo
পাম্পে চাপ বেড়ে বিক্রি বন্ধ

তেল সঙ্কটের গুঞ্জনে ‘ফুল ট্যাংক’র হিড়িক


নিজস্ব প্রতিবেদক published:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫৭ এএম

তেল সঙ্কটের গুঞ্জনে ‘ফুল ট্যাংক’র হিড়িক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বাজারেও। 




তেল সংকটের গুঞ্জনে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় চালকদের মধ্যে ফুল ট্যাংক করে জ্বালানি নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। 




শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং জ্বালানি বিক্রয়কারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। বিক্রেতারা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হঠাৎ করেই ক্রেতার চাপ বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ চালকই ভবিষ্যত-ঘাটতি আশঙ্কায় যানবাহনের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। এতে দ্রুত পাম্পগুলোর মজুত কমে যাচ্ছে।




সরেজমিনে পবা উপজেলার শাহমখদুম এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় বেলা ১১টার দিকে হাবিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে টানানো একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা, কারে ১ হাজার টাকা এবং মাহিন্দ্রায় ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।




এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নওহাটা বাজার এলাকার রুচিতা ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সেখানে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।




রুচিতা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে এসেছিলেন আনোয়ার হোসেন। কিন্তু পাম্পে পেট্রোল না থাকায় তিনি জ্বালানি নিতে পারেননি। পরে নিজের মোটরসাইকেলটি ঠেলতে ঠেলতে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, হঠাৎ করে পাম্পে তেল না থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।




রুচিতা ফিলিং স্টেশনের এক বিক্রয়কর্মী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি ছিল। বেশির ভাগ ক্রেতাই ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। এতে দ্রুত মজুত কমে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।




রুচিতা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার পঞ্চম রায় বলেন, তাঁদের পাম্পে মোট মজুত থাকে ১৫ হাজার ৪০০ লিটার জ্বালানি। নিয়ম অনুযায়ী রিজার্ভ ট্যাঙ্কে অন্তত ২ হাজার লিটার রাখতে হয়। কিন্তু ডিপো থেকে তেলবাহী গাড়ি না আসায় মজুত দ্রুত কমে গেছে।




তিনি আরও বলেন, রাতেই বেশির ভাগ জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে গেছে। আশপাশের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল দেওয়া বন্ধ করায় তাঁদের পাম্পে চাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন নেই, কেবল ডিজেল রয়েছে। গত রাতে ডিপো থেকে গাড়িতে পেট্রোল দেওয়া হয়নি, শুধু দুটি চেম্বারে ডিজেল দিয়ে পাঠানো হয়েছে।




বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। আর রাজশাহীতে আছে ৪২টির মতো গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।




রাজশাহী পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমিনুল হক বলেন, বাঘাবাড়ি তেলের ডিপোতেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রাজশাহীতে যে মজুদ আছে তা দিয়ে শনিবার পর্যন্ত পাওয়া যাবে। প্রতিটি পাম্পকে অল্প তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারও নির্দেশনা জারি করেছে। এর বাইরে আপাতত আমরা তেল দেব না।




এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে কুলসুম শম্পা বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কোনো ফিলিং স্টেশনে মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল বিক্রি না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।