বাংলাদেশ, সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
logo
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহীতে গ্যাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি সাধারণ মানুষ


তানভির মাহাতাব | মহানগর প্রতিনিধি published:  ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

রাজশাহীতে গ্যাস সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি সাধারণ মানুষ

রাজশাহী মহানগরীতে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে এলাকাভেদে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নগরীর ভদ্রা, বউবাজার ও হাউজিং কোয়ার্টার এলাকায় এই সিন্ডিকেটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি।


সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভদ্রা বউবাজার এলাকার গ্যাস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ডিলার হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তার দোকানে গেলেই শুনতে হচ্ছে "গ্যাস নেই"। অথচ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সাধারণ মানুষকে 'না' বললেও পেছনের দরজা দিয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছেন তিনি। এছাড়া বাসা-বাড়ির জন্য নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডার গোপনে স্টক করে রেখে সুযোগ বুঝে চড়া দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


১৩৫০ টাকা মূল্যের গ্যাস পরিস্থিতিভেদে ১৬০০, ১৮০০ এমনকি ২০০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, "বাসায় রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তাই বাধ্য হয়েই ডিলারের দাবি করা অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।"

একই চিত্র দেখা গেছে ভদ্রার মোড় এলাকায়। সেখানে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামালের কাছে গ্যাসের দাম নিয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি জানান, "বেশি দামে কিনেছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করছি। নিলে নেন, না নিলে করার কিছু নেই।" শুধু জামাল বা আলী নন, হাউজিং কোয়ার্টার মসজিদের পাশের ব্যবসায়ীরাও একই সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে চড়া দামে গ্যাস বিক্রি করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মচারী বলেন, "বড়লোকদের জন্য ৫০০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা কোনো ব্যাপার না, কিন্তু আমাদের মতো সামান্য বেতনের মানুষের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের সব জিনিসের দাম চড়া, তার ওপর গ্যাসের এই নৈরাজ্য আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।"


সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন লুটতরাজ চললেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব। দফায় দফায় অভিযোগ করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই মজুদদার ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে গ্যাসের দাম ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নগরবাসী।