অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি স্বজনরা
আবুল হাসনাত অমি published: ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:১১ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৬ নম্বর ইন্টার্ন গেটের সামনে গেলেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু লক্কড়-ঝক্কড় মাইক্রোবাস। ২৩ ( শুক্রবার ) বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ বাহন মনে হলেও, এগুলো আসলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ‘শিকার ধরার জাল’। অভিযোগ উঠেছে, এই গেট দিয়েই প্রতিদিন বের হওয়া ১২ থেকে ১৪টি মৃতদেহ এবং তাদের স্বজনদের জিম্মি করে কয়েক গুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে একটি অসাধু চক্র।
জিম্মি দশার করুণ চিত্র :
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগী মারা যাওয়ার পরপরই এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনো পরিবার যদি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বা বাইরের কম ভাড়ার গাড়িতে মৃতদেহ নিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের পড়তে হয় চরম বাধায়। সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাইরের গাড়িকে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতে দেয় না এবং স্বজনদের একপ্রকার বাধ্য করে তাদের নির্ধারিত লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িতে লাশ তুলতে।
ভাড়ার নামে লুণ্ঠন :
ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, যেখানে একটি লাশের গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ ভাড়ার চেয়ে ২ থেকে ৬ গুণ, ক্ষেত্রবিশেষে ৮-১০ গুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়। শোকাতুর অবস্থায় দরদাম করার ক্ষমতা না থাকায় বাধ্য হয়েই নিঃস্ব হতে হয় হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে। প্রতিবাদ করতে গেলে সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে নাজেহাল হওয়ার নজিরও কম নয়। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে গিয়ে এক আনসার সদস্যকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন :
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দখল করে এই অবৈধ পার্কিং এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজি চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মাঝে মাঝে সেনাবাহিনী বা র্যাবের অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও কিছুদিন পরই পরিস্থিতি আবার আগের মতো হয়ে যায়। এই এলাকায় নোংরা পরিবেশ এবং নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আনাগোনাও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রামেক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাড়ার তালিকা টাঙানো এবং পুলিশের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা উচিত।