আবুল হাসানাত অমি published: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম

রাজশাহীর সিল্কের শহর হিসেবে পরিচিতি থাকলেও, বর্তমান সময়ে এই শহরটি হয়ে উঠছে প্রযুক্তির এক নতুন কেন্দ্র। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কাজ করছেন একদল স্বপ্নবাজ তরুণ। এমনই একজন তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ আহমাদুল্লাহ। যার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজয় বাংলা আইটি’। কোনো জাদুকরী উপায়ে নয়, বরং হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর ধৈর্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের এই প্রতিষ্ঠান।
কঠিন পথচলার শুরু :
মোঃ আহমাদুল্লাহর পথচলাটা ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। এক সময় যার কাছে কম্পিউটার কেনাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, আজ তিনি শত শত তরুণকে কম্পিউটারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন। রাজশাহীর সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা এই তরুণ পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের ভিত গড়েন। অনেক রাত কাটিয়েছেন কম্পিউটারের সামনে, শিখেছেন নিত্যনতুন সব প্রযুক্তি।
বিজয় বাংলা আইটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন :
নিজের অভিজ্ঞতাকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিজয় বাংলা আইটি’। রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং তরুণদের জন্য একটি ভরসার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েক হাজার তরুণ আজ দেশি-বিদেশি বাজারে কাজ করছেন।
আহমাদুল্লাহর জীবন দর্শন :
আহমাদুল্লাহর জীবনের বড় একটি বৈশিষ্ট্য হলো তার হার না মানা মানসিকতা। শুরুতে অনেকেই তার এই উদ্যোগকে বাঁকা চোখে দেখলেও, তিনি পিছু হটেননি। তার ভাষায়— "সফলতা এক দিনে আসে না, কিন্তু চেষ্টার কোনো ত্রুটি না থাকলে সাফল্য আসতে বাধ্য। আমি চেয়েছি রাজশাহীর তরুণরা যেন ঢাকা বা বিদেশের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের ঘরে বসেই বিশ্ব জয় করতে পারে।"
সামাজিক অবদান ও স্বীকৃতি :
বিজয় বাংলা আইটির মাধ্যমে আহমাদুল্লাহ কেবল দক্ষ জনশক্তিই তৈরি করছেন না, বরং অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফ্রিতে আইটি শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। তার এই মানবিক এবং পেশাদার উদ্যোগের কারণে রাজশাহীর আইটি মহলে তিনি এক প্রশংসিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
আগামীর লক্ষ্য :
মোঃ আহমাদুল্লাহর স্বপ্ন হলো ‘বিজয় বাংলা আইটি’-কে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি আইটি ফার্মে রূপান্তর করা। তিনি বিশ্বাস করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ মানুষ তৈরি করতে হবে।
রাজশাহীর রাস্তায় রিকশাচালক টুলি বেগমের যেমন জীবন সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়, তেমনি ডিজিটাল দুনিয়ায় মোঃ আহমাদুল্লাহর এই লড়াই আগামীর তরুণদের জন্য এক বড় দৃষ্টান্ত।