বাংলাদেশ, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
logo
বাগমারায় ওমর ফারুকের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা:

এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, খুনিদের আড়াল করার সুযোগ নেই


নিজস্ব প্রতিনিধি published:  ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম

এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, খুনিদের আড়াল করার সুযোগ নেই

রাজশাহীর বাগমারায় ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৮) চুরির অপবাদে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন ও পরবর্তীতে কারাহেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা, গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়াসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনাকে 'সভ্যতার কলঙ্ক' হিসেবে অভিহিত করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


বিবৃতিতে ইয়্যাস সভাপতি শামীউল আলীম শাওন বলেন, "গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শত শত মানুষের সামনে দুই ঘণ্টা ধরে ওমর ফারুককে বিবস্ত্র করে পেটানো, হাত-পায়ে আট-দশটি বড় পেরেক ঠুকে দেওয়া এবং তৃষ্ণার্ত অবস্থায় নদীর নোংরা পানিতে চুবিয়ে মারার মতো যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি চরমতম মানবতাবিরোধী কাজ। এই বর্বরতা মধ্যযুগীয় অন্ধকারকেও হার মানিয়েছে।"


বিবৃতিতে শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত অধিকার ও উন্নয়নকর্মী শামীউল উল্লেখ করেন, এই পৈশাচিকতা বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ, জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR) এবং নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের (UNCAT) সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু একজন ব্যক্তিকে জরুরি চিকিৎসাসেবা না দিয়ে কোন যুক্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হলো? এটি কি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার কোনো পরিকল্পিত অপকৌশল? ২০১৩ সালের 'নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন' অনুযায়ী এমন অবহেলা ও নির্যাতন ফৌজদারি অপরাধ।"


ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইয়্যসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী শামীউল আলীম শাওন জাতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।


১. তাৎক্ষণিক গ্রেফতার: সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনসহ চিহ্নিত সকল অভিযুক্তকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। ২. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত: স্থানীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ৩. প্রশাসনিক জবাবদিহি: মুমূর্ষু ব্যক্তিকে চিকিৎসাবঞ্চিত করে সাজা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের ভূমিকা কঠোরভাবে তদন্ত করতে হবে। ৪. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল: মামলাটিকে 'চাঞ্চল্যকর' হিসেবে গণ্য করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ৫. পরিবারকে সুরক্ষা: নিহতের অসহায় পরিবারকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।


বিবৃতিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ওমর ফারুকের ওপর চালানো এই বর্বরতা যদি বিচারহীনতায় ঢাকা পড়ে, তবে তা হবে আইনের শাসনের চূড়ান্ত পরাজয়। আমরা এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব এবং প্রয়োজনে রাজশাহীর সচেতন ছাত্র-যুব সমাজকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।"