বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
logo
ছায়াহীন হওয়ার শঙ্কায় বিমানচত্বর সড়ক

রাজশাহীতে উন্নয়নের বলি শতাধিক গাছ


স্টাফ রিপোর্টার published:  ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩০ এএম

রাজশাহীতে উন্নয়নের বলি শতাধিক গাছ
রাজশাহীতে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কাজের অংশ হিসেবে নগরের এই সড়কের এক পাশে শতাধিক গাছের ডালপালা কাটা পড়ছে দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ

দুপুরের রোদের তাপে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল বিমানচত্ত্বর-বিহাস সড়কে। যে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো বছরের পর বছর ধরে পথচারীদের ছায়া দিয়ে এসেছে, সেগুলোর অনেকগুলোর ডালপালা এখন কাটা। অর্ধেক ডালবিহীন, ক্ষতচিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে উন্নয়ন কাজের খেসারত দিচ্ছে নগরের সবুজ।


রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কাজের অংশ হিসেবে নগরের এই সড়কের এক পাশে শতাধিক গাছের ডালপালা কাটা পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলোর বেশিরভাগই কৃষ্ণচূড়া যেগুলো গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদে পথচারীদের স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল।


নগরের পানির চাহিদা পূরণে রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুর এলাকায় একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করছে ওয়াসা। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় শহরের ভেতরে ৪১ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। এর আগেও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি।


এবার সেই প্রকল্পের কাজ এসে পড়েছে বিমানচত্ত্বর বিহাস সড়কে। চার লেনের এই সড়কের দুপাশে কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে, যেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। তবে সড়কের এক পাশ দিয়ে পাইপলাইন বসাতে গিয়ে ফুটপাতে থাকা গাছগুলোর ডালপালা কাটা হচ্ছে।


সোমবার দুপুরে নাদের হাজির মোড় এলাকায় সরজমিনে গিয়ে  দেখা যায়, সড়কের একটি লেনে যান চলাচল বন্ধ রেখে এক্সকেভেটর দিয়ে খনন করা হচ্ছে। পরে ক্রেন ব্যবহার করে পাইপ বসানো হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের কারণে গাছের ডাল ভেঙে পড়ছে। সেই ভাঙা ডালগুলো আবার পরিকল্পিতভাবেই কেটে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়রা সেই ডাল নিয়ে যাচ্ছেন। এ দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক পথচারী। এ এলাকায় অন্তত ৮৬টি কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল ও সাদা রং দিয়ে নম্বরিং করা হয়েছে। এসব গাছের ভবিষ্যৎ কী সেটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।


পরিবেশ আন্দোলনকর্মী আতিকুর রহমান দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ পত্রিকাকে বলেন, গাছ না কাটলে এরা কোনো কাজ করতে পারে না বারবার সেটাই প্রমাণ করেছে। পরিকল্পনা থাকলে গাছ রক্ষা করেই উন্নয়ন করা যেত। এখনও সময় আছে উন্নয়নের নামে যেন গাছের ক্ষতি না করা হয়। তারা ডের বা দুই ফিট সরিয়ে কাজ করলে


তাদের পরিকল্পনা সফল হত সাথে পরিবেশ বাঁচতো। আর কত উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস হবে।


সাইটে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী  দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ পত্রিকাকে বলেন, আমরা কোনো গাছ কাটছি না। এক্সকেভেটর ও ক্রেন চালাতে গেলে কিছু ডাল ভেঙে যাচ্ছে। তখন সেগুলো কেটে ফেলতে হচ্ছে।


অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ-উল-ইসলাম জানান, গাছ বা গাছের ডালপালা কাটার বিষয়ে তার দপ্তরের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কেউ অনুমতি নিয়েছে কি না, সেটিও আমি জানি না।


তবে গাছের ডাল কাটার জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ। তিনি জানিয়েছেন, আমরা সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিয়েছি। গাছ ফুটপাতে আছে, পাইপ বসছে সড়কে। তাই গাছ কাটার প্রয়োজন নেই।


তবে এক্সকেভেটর ও ক্রেন চালাতে গিয়ে কিছু গাছের ডাল ভেঙে যাচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে-যদি অনুমতি ও পরিকল্পনা থাকেই, তবে কেন শতাধিক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? উন্নয়নের এই গতিপথে রাজশাহীর সবুজ কি ধীরে ধীরে ছায়াহীন হয়ে পড়ছে-এই প্রশ্নই এখন নগরবাসীর মুখে মুখে।