বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: published: ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:৩৮ পিএম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে আল্লাহ ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে কটূক্তিকারী রাখাল রাহা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জুম্মার নামাজ শেষে আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বেলকুচির উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তামাই কবরস্থান মাদ্রাসার সায়খুল হাদিস আলহাজ্ব মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার আলেম-ওলামা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “মহান আল্লাহ এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অবমাননা কোনো মুসলমান সহ্য করবে না। যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করবে, তাদের জন্য এ জমিনে কোনো ঠাঁই নেই। রাখাল রাহা নামের এক নাস্তিক সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসুলকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। এ ধরনের অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে বারবার ষড়যন্ত্র ও অবমাননা করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও ব্লাসফেমি আইন নেই। তাই এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অবিলম্বে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দাবি করেন, ইসলাম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে বারবার মহানবী (সাঃ)-কে নিয়ে কটূক্তি করা হলেও দোষীরা শাস্তি পায় না। ফলে তারা বারবার এমন নিন্দনীয় কাজ করার দুঃসাহস দেখায়। বক্তারা বলেন, “যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস পাবে না।”
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বেলকুচি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা “ধর্ম অবমাননার বিচার চাই”, “নবী অবমাননাকারীর ফাঁসি চাই”, “ইসলাম অবমাননা আর নয়”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলটি আবারও আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে সমাপ্ত হয়।
সমাবেশে যোগ দেওয়া স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা জানান, বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ, অথচ এখানে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন নেই। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ইসলাম ও নবী করিম (সাঃ)-এর অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ শেষে উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা একমত হয়ে ঘোষণা দেন যে, ইসলাম ও প্রিয় নবী (সাঃ)-এর অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।