ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রবল সাহসী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি আজ (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুর আগে তার দেওয়া সেই বিখ্যাত বক্তব্য ‘জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না’ অবশেষে সত্য প্রমাণিত হলো।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, যার ফলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
এরপর থেকে সারা দেশে জনমনে তার প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতির ঢেউ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাদির সাহসী অবস্থান ও আত্মত্যাগ দেশের রাজনীতি ও যুবসমাজের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী নেতৃত্ব ও উদ্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিতি পান। টকশো ও সভা-সমাবেশে তার ঝাঁজাল বক্তৃতা তাকে জনমনে এক অনন্য সাহসী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হাদির মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো তার সাহসী মনোভাব এবং ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছে। অনেকে মনে করছেন, হাদির জীবন ও কর্ম দেশের যুবসমাজের মধ্যে ন্যায়, স্বাধীনতা এবং ইনসাফের প্রতি উৎসাহ জাগাবে।
শরিফ ওসমান বিন হাদির জীবন প্রমাণ করেছে, ভয়, হুমকি এবং মৃত্যুর আশঙ্কা কখনো ন্যায়ের পথে দাঁড়াতে বাধা দিতে পারে না। তার দেওয়া ‘জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না’ উক্তি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা ছিল না, বরং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য অদম্য সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।