চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমোন্বয়ে আশংকাজনক ভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। টিউবওয়েলে পানি না থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন বহু দূরের পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে অল্প গভীরতাতেই নলকূপে পানি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন গভীর নলকূপ বসিয়েও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সেচের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে এবং ধানসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা জানান, পানির এই সংকটের কারণে ধান চাষ সীমিত করতে হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রবিশস্য আবাদে আগ্রহী হতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাচ্ছে। কৃষকদের কম পানি লাগে এমন ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে বোরো চাষের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
অপরদিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা ও সেচের সুবিধা নিশ্চিত করতে নদীর পানি সংরক্ষণ করে খাল খনন করা হচ্ছে। কৃষকদের সেই পানি ব্যবহার করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টির মাধ্যমে ভূগর্ভে পানি জমা হয় প্রায় ৯০০ মিলিমিটার, কিন্তু ফসল চাষে প্রয়োজন প্রায় ১৩০০ মিলিমিটার। সেচের এই ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান পানি চাহিদার কারণে কৃষি ও জনজীবনে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ, বিকল্প সেচব্যবস্থা এবং কম পানিনির্ভর ফসল চাষে গুরুত্ব না দিলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।