বাংলাদেশ, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
ভোরে কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে নগরী

কনকনে শীতে রাজশাহীর জনজীবন

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

নিজস্ব প্রতিনিধি

published: 26 December, 2025, 05:14 PM

কনকনে শীতে রাজশাহীর জনজীবন

গত কয়েক দিনে হিম হয়ে উঠেছে পৌষের সকাল। উত্তপ্ত রক্তিম সূর্যটিও ইদানীং যেন নিস্তেজ। গাছ-পালা, ফুল-ফল, সবুজ ঘাস ও ফসলের মাঠ শিশিরাসিক্ত। কাকডাকা ভোর ও সন্ধ্যা নামার পরপরই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি। চলতি মৌসুমে আজ রাজশাহীতে রেকর্ড হয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীতের প্রভাবে ব্যস্ত নগরজীবনের সোরগোল ম্লান হয়ে চারপাশে নেমে এসেছে এক ধরনের শান্ত-স্তব্ধতা।


রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. রহিদুল ইসলাম জানান, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে এবং আজ সকাল থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষভাগে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। জানুয়ারির প্রথমার্ধে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামে এবং শেষভাগে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আজ সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শীতের তীব্রতা বাড়ে। চলতি মাসের শেষদিকে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদীতীরবর্তী এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাত ও দিনের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে কমতে থাকবে।


নগরজুড়ে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব ভোর ও সন্ধ্যায় গরম কাপড় ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের আগমনে ঘরের আলমারি ও কাপড়ের ট্রাঙ্ক থেকে বের হয়েছে নকশিকাঁথা, হালকা কম্বল ও লেপ। নগরীর বিভিন্ন বাজারেও শীতের পোশাকের বেচাকেনা বেড়েছে।


শীত এলেই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন খেজুরের রস সংগ্রহে। সেই রস থেকে তৈরি হচ্ছে গুড়, আর গুড় দিয়ে গ্রাম-গঞ্জে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের শীতের পিঠা। শহুরে জীবনও এর বাইরে নয়। রাজশাহীর বিভিন্ন মোড়ে ভ্যান ও দুই চাকার গাড়িতে ভাপা পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। সেদ্ধ চাল, খেজুরের গুড় ও নারিকেলের সমন্বয়ে তৈরি গরম ভাপা পিঠার স্বাদ যেন শীতের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।


ভাপা পিঠার পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাবার কালাইরুটির চাহিদাও বেড়েছে। শীত এলেই কেন্দ্রীয় বাস ও রেলস্টেশন, সাহেব বাজার, কোর্ট হড়গ্রাম, তালাইমারী, ভদ্রা ও উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় কালাইরুটি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। কালাইরুটির সঙ্গে বেগুন ভর্তা, হাঁস বা গরুর মাংস, কিংবা গরুর বটভুনা ও ধনেপাতার ঝাল চাটনির কদর বাড়ে।


শীতের আগমনে জনজীবন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়লেও ব্যস্ত সময় কাটছে ধনুকরদের। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর তাদের ব্যস্ততা দ্বিগুণ। লেপ, তোশক, জাজিম ও বালিশ তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন রাজশাহীর ধনুকররা।


ডিসেম্বরের কনকনে শীতে নগরীর রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা থাকছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া রিকশাচালক ও দিনমজুরেরা। স্বাভাবিক দিনের মতো যাত্রী না পাওয়ায় কমে গেছে আয়। নগরীর শিরোইল মোল্লামিল এলাকার রিকশাচালক মিনু মিঞা জানান, হঠাৎ করে বাতাসের সঙ্গে প্রচণ্ড শীত শুরু হওয়ায় মানুষ খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না। ফলে যাত্রীও মিলছে না। স্বাভাবিক দিনে যেখানে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা আয় হতো, সেখানে ডিসেম্বরের শীতে ৫০০ টাকা রোজগার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

National