নাটোরের চলনবিলের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা পয়েন্টে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে ‘নদী দূষণ রোধ করি, নির্মল বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে এ আয়োজন শুরু হয়। এসময়য় হাজারো দর্শনার্থীর ঢলে মুখরিত হয়ে ওঠে বিলপাড়।
বাইচ প্রতিযোগিতায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে ২১টি নৌকা নিবন্ধন করলেও অংশ নেয় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১২টি দল। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে মোটরসাইকেল জিতেছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির নিউ একতা এক্সপ্রেস। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রেফ্রিজারেটর জিতেছে নিউ বাংলার বাঘ (শাহজাদপুর), এবং তৃতীয় পুরস্কার একটি টেলিভিশন পেয়েছে আল মদিনা।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে বিলপাড়জুড়ে গড়ে ওঠে মিলনমেলা। সকাল থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ ও প্রবীণরা দল বেঁধে উপস্থিত হন উৎসবস্থলে। নৌকায় বসে বসেই অনেকেই উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা। বাদ্যের তালে তালে বৈঠার ছন্দে নৌকাগুলো ছুটে চলছিল, আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর ছিল পরিবেশ।
প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আজিম আহম্মেদ, ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান, নাটোরের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম এবং গুরুদাসপুর ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ।
উৎসব উপলক্ষে স্থানীয় গ্রামগুলোতে ছিল পিঠা-পায়েসসহ নানা পদের খাবারের আয়োজন। বিলশা গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, একসময় এই নৌকা বাইচ ছিল গ্রামীণ বিনোদনের বড় উৎস। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
সিংড়ার কতুয়াবাড়ি গ্রামের রকিব জানান, আমরা কয়েকজন মিলে একটি নৌকা ভাড়া করে বাইচ দেখতে এসেছি। খাবারের ব্যবস্থাও ছিল আমাদের নৌকায়। খুব ভালো লেগেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ঢল প্রমাণ করে, এটি এখনো কতটা জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রতিবছর এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।