বাংলাদেশ, সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

দুর্গাপুরে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর মুকুল

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি

published: 14 March, 2026, 03:41 AM

দুর্গাপুরে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর মুকুল

রাজশাহী দুর্গাপুরে সবুজ রঙের পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লিচুর মুকুল। ফাল্গুনের হাওয়ায় কচি পাতার সঙ্গে দোল খাচ্ছে কুশিসহ মুকুলগুলো। গাছে গাছে আনাগোনা বাড়ছে মৌমাছিরও। বর্তমান এ উপজেলায় সব লিচু গাছগুলোতে ছেয়ে গেছে মুকুলে। 




ভালো ফলনের আশায় গাছের গোড়া নিড়ানি, সেচ দেওয়া, ছত্রাকনাশক ছিটানোসহ ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। 




আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও লিচুর বাম্পার ফলনের আশা বাগান মালিকসহ সবার। এরই মধ্যে লিচু বাগান আগাম বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় লিচু বাগান নিয়ে ৪ মাস ব্যবসা চলবে। এ উপজেলায় বিশেষ করে বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশী লিচুর জাত বেশি রয়েছে। এ উপজেলায় সমতল বাগান,বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচুর গাছ রয়েছে।


 


দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি লিচু গাছের ডালে ডালে এবার মুকুল এসেছে। লিচু গাছে এমন মুকুল দেখে বাগান মালিক আশাবাদী, বাগান বিক্রি করে এবারও লাভবান হবেন। মধূ মাস বৈশাখ মাস থেকে বাজারে উঠতে শুরু হবে এ লিচু। তবে কাঠি যাতের লিচু একটু আগেই পাওয়া যাবে।




আমগ্রাম গ্রামের লিচু বাগান মালিক আয়ুব আলী বলেন, ‘আমার বাগানে ৩০টিরমত লিচু গাছ আছে। বাগানে চায়না থ্রি ও বোম্বে জাতসহ বিভিন্ন লিচুর গাছ আছে। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত মুকুল আসছে। বাগানে পানি সেচ দিচ্ছি এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ঔষধ স্প্রে করছি। আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবারের লিচুর ভালো ফলন পাবো। সেই সাথে দামটাও ভালো পাব।’ 




সিংগা গ্রামের ব্যবসায়ী জানে আলম জানান, ‘প্রতি বছর তিনি লিচু গাছে মুকুল আশার পর বাগানের প্রকার ভেদে বাগান মালিকের কাছ থেকে বাগান কেনেন। এবং সেই বাগানে তিনি তারমত পরিচর্জা করেন। সেই লিচুগুলো বাজারজাত করণের সময় হলে তিনি বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বাজারজাত করেন। তিনি তা থেকে প্রতি বছর কম বেশি ৩ থেকে ৪ মাসে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করেন।’ 




বাগান পানানগর গ্রামের লিচু বাগান মালিক মমিন জানান, ‘তার বাগানে প্রায় ২০টিরমত গাছ আছে। একটি বড় গাছে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত এবং সবচেয়ে ছোট গাছে ১ থেকে দেড় হাজার লিচু পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছেই কমবেশি মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেই বাগান থেকে তিনি কম পক্ষে ৭ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে জানান।’ 




এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের লিচু গাছে মুকুল পরিচার্জায় বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। বরাবরেমত এবারেও প্রতিটি লিচু গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে আছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি চাষিরা লিচু বিক্রি করে অনেক লাভবার হবেন।’

National