রাজশাহীতে অটোরিকশায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রীর সামনে বসে অশোভন আচরণ করেছেন এক ব্যক্তি। ওই ছাত্রী এমন কর্মকাণ্ডের ভিডিও করে প্রকাশ করেছেন নিজের ফেসবুক আইডিতে। এরপর বিষয়টি ভাইরাল হয়ে গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজছে থানা-পুলিশ।
ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলের। ওই ছাত্রী ফেসবুকে অভিযুক্ত ব্যক্তির ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আজকে পরীক্ষা দিয়ে ইফতারি কিনে বাসায় আসার সময় বর্ণালীর মোড়ে এই ...বাচ্চা আমার সামনে বসে। হাতে কাপড়ের বড় বস্তা ছিলো। বারবার আমার পায়ে টাচ হচ্ছিল। ভাবলাম, এতো বড় ব্যাগ, তাই হয়তো সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরও বেশি সমস্যা হওয়ার পর পা সরাতে বলি। তারপর সে নিজের গোপনাঙ্গ নিয়ে অশোভন আচরণ করে।’
ওই ছাত্রী আরও লেখেন, ‘যখন বুঝতে পারে ভিডিও করছি, তখনই হাত সরিয়ে নেয়। রোজা-রমজানের মাসেও এদের হেদায়েত হয় না। ভেতরের...জেগে উঠে মেয়ে দেখলেই। সারাটাদিন রোজা রেখে পরীক্ষা দিয়ে যখন এসব সহ্য করা লাগে তখন আর কিছু বলার থাকে না আসলে!’
কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রী এ নিয়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘যারা এই অবধি আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি সেইফলি বাসায় আসছি। যারা জিজ্ঞেস করছেন আমি কিছু করতে পেরেছি কি না তাদের জন্য বলি ‘না’। আমি তেমন কিছু করতে পারিনি!’
তিনি আরও লেখেন, ‘যারা আমাকে চেনেন তারা জানেন আমি ভীতু অনেক। অল্পতে ভয় পাই। ওই ঘটনা ঘটার পর আমার হাত পা কাঁপছিল।গা ঘিনঘিন করছিলো। দুটো গালি দেয়া ছাড়া কিছু করতে পারিনি। এই যে সঠিক জায়গায় সঠিক প্রতিবাদ না করতে পারার কষ্ট আমি আজীবন ধরে পেয়ে আসছি। ওই লোকের খোঁজ পাওয়া গেছে। যত দ্রুত সম্ভব আইনি পদক্ষেপ নেব।’
ফেসবুক আইডির তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে তার পোস্ট দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভিডিওটি দেখেছি। আমাদের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষও দেখেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা আছে। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’