সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলার ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে, তবে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ভোর থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। অনেকের চোখে ছিল আগ্রহ ও স্বস্তির ছাপ। কয়েকজন ভোটার জানান, “গত ১৭ বছরে এমন পরিবেশে ভোট দিতে পারিনি। এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছি—এটাই বড় আনন্দ।” কর্মসংস্থানের কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করা অনেক ভোটার আগের রাতেই বাড়ি ফিরে এসেছেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাউফল থানা সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে ৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১২টি পুলিশের মোবাইল টিম, ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, সেনাবাহিনীর ২টি কন্টিনজেন্ট (৬০ সদস্য), বিজিবির ১টি কন্টিনজেন্ট (৩০ জন) এবং কোস্টগার্ডের ১২ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৬ জন করে এবং সাধারণ কেন্দ্রে ৪ জন করে অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড টহল দিতে দেখা গেছে।
এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি মনোনীত শহিদুল আলম তালুকদার ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। দুই দলের নেতাকর্মীরা ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অটো ও টেম্পু ভাড়া করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে ভোটারদের জন্য অভ্যর্থনা ক্যাম্প বসানো হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের দেড় শতাধিক সাংবাদিক মাঠে কাজ করছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে লাইভ সম্প্রচার করছেন, যা এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সব মিলিয়ে বাউফলে ভোটগ্রহণ ঘিরে উৎসব, নিরাপত্তা ও প্রত্যাশার এক অনন্য মিশ্রণ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের প্রত্যাশা—তাদের দেওয়া ভোটই নির্ধারণ করবে আগামীর নেতৃত্ব।