রাজশাহী নগরীতে চলছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট। সাধারণ মানুষ যখন এক ফোঁটা গ্যাসের জন্য হাহাকার করছেন, তখন নগরীর বড় ডিলারদের বিরুদ্ধে উঠেছে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চড়া দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ। এর মধ্যে কাদিরগঞ্জ মহিলা কলেজ সংলগ্ন 'মেসার্স হালিমা এজেন্সী'র কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে হালিমা এজেন্সীর সামনে গিয়ে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে বড় বড় অক্ষরে কাগজে লিখা রয়েছে— "গ্যাস নাই"। অথচ এই সাইনবোর্ডের নিচ দিয়েই সারি সারি ভ্যানে করে শত শত গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বের হতে দেখা যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের।
সাধারণ গ্রাহকরা যখন খালি সিলিন্ডার নিয়ে গেটে আসছেন, তখন তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্টকে মাল নেই। কিন্তু পর্দার আড়ালে খুচরা বিক্রেতা ও নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের কাছে ঠিকই চলে যাচ্ছে হাজার হাজার সিলিন্ডার।
গ্রাহকদের অভিযোগ : ‘সবই আইওয়াশ’
ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছেন ভুক্তভোগীরা। এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, "গেটে লিখে রেখেছে গ্যাস নাই, কিন্তু একটু পর পরই ভ্যান ভর্তি করে গ্যাস বের হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি না করার জন্যই এই 'গ্যাস নাই' নাটক সাজানো হয়েছে। বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ঠিকই বিক্রি করা হচ্ছে।"
রাজশাহীর বাজারে এখন নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই সাধারণ পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। হালিমা এজেন্সীর মতো বড় এজেন্টরা যদি এভাবে স্টক থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেয়, তবে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে হালিমা এজেন্সী কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, যারা আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রেখেছেন তাদেরই মাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিয়ে এভাবে গেটে নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা কতটুকু যৌক্তিক, সে প্রশ্ন এখন নগরবাসীর মনে।
রাজশাহীর ভোক্তা সাধারণের দাবি, অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যেন এসব বড় ডিলারদের গুদামে অভিযান চালায় এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনে।