স্টাফ রিপোর্টার published: ১৩ মার্চ, ২০২৫, ০৪:৫০ এএম

রাজশাহীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাহত রিকশাচালক গোলাম হোসেন (৪৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রী পরী বানুর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করতে গিয়ে বিএনপির দুই নেত্রীর বাধার মুখে পড়েন, যার ফলে চিকিৎসা পেতে এক ঘণ্টা দেরি হয়। তবে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এক আওয়ামী লীগ নেতার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো এবং তাঁর ভাইকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার রাতে চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষে তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় রিকশা জমা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে গোলাম হোসেনকে এক পক্ষের কর্মীরা ভুলবশত প্রতিপক্ষ ভেবে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের স্ত্রী পরী বানু জানান, থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। তাঁর স্বামী হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পারতেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিলে বিএনপির নেত্রী লাভলী খাতুন চিকিৎসা দিতে বাধা দেন এবং চিকিৎসকদের রোগী ভর্তি করতে নিষেধ করেন। পরী বানুর কথায়, ‘লাভলী ও বীথি বলছিলেন, এই রোগী ভর্তি হবে না।’ পরে পুলিশের সহায়তায় চিকিৎসা শুরু হলেও দেরি হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মহানগর মহিলা দলের ক্রীড়া সম্পাদক বীথি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে থাকলেও এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
এদিকে, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মামলা নেওয়া হবে।