বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অনলাইন প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম ‘অন্বেষণ’-এর একটি লাইভ ক্লাসে সম্প্রতি সংঘটিত ন্যাক্কারজনক অশ্লীল ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে দেশের অন্যতম যুব সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)। সংগঠনটি এই জঘন্য ঘটনাকে “শিক্ষার পবিত্রতাকে কলুষিতকারী গুরুতর অপরাধ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
এই অপরাধ অনলাইন শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধ্বংস করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাধ অনলাইন শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধ্বংস করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
— মো. শামীউল আলীম শাওন, সভাপতি, ইয়্যাস
গত ০৮ জুলাই, রাত ১২টায়, ‘অন্বেষণ’ প্ল্যাটফর্মে চলমান একটি লাইভ ক্লাসে এক অজ্ঞাত পুরুষ শিক্ষক ও নারী শিক্ষক সামিরা প্রকাশ্যে অশালীন ও যৌনতাপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি এবং চুম্বনের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করেন। এই ঘটনা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঢাকার গুলশান এলাকার একজন অভিভাবক আশরাফ বিজয়, ০৯ জুলাই ঢাকার ভাটারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শিক্ষকতার মর্যাদা ও নৈতিকতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অপরাধের প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
‘শিক্ষার্থীদের মনে বিষ ঢালছে এই ভিডিও’ — ইয়্যাস
ইয়্যাস গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বহু কোমলমতি শিক্ষার্থীর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। অনলাইন শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা এই অশালীন দৃশ্যের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমন ঘটনা ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ইয়্যাস সভাপতি মো. শামীউল আলীম শাওন বলে
“শিক্ষার পবিত্র মঞ্চে এমন নোংরামি মেনে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর এর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু সেই ক্লাসে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর মনে স্থায়ীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি শিক্ষকতার নৈতিকতা, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবনের জন্য হুমকি।”
ইয়্যাসের দাবি ও আইনি সুপারিশ:
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুসারে:
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী:
ইয়্যাসের ৫ দফা দাবি:
১. অভিযোগ অনুযায়ী দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা
২. শিক্ষকদের আচরণে কঠোর জবাবদিহিতা ও প্রতিষ্ঠানের দায় ঠিক করা
৩. অনলাইন শিক্ষার জন্য আচরণবিধি ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন
৪. শিক্ষকদের নৈতিকতা ও সাইবার আচরণবিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা
৫. শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত অনলাইন শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা
ইয়্যাস সভাপতি মো. শামীউল আলীম শাওন আরও বলেন,
“এই জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে একযোগে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
শিক্ষার নামে এমন বিকৃত আচরণ ও এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব রোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইয়্যাস।