ডেস্ক নিউজ published: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৮ এএম

দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের আঞ্চলিক জোট হচ্ছে সার্ক (সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন)। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান এই জোটের সদস্য। প্রথমে ৭টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকলেও ২০০৭ সালে আফগানিস্তান অষ্টম দেশ হিসেবে এতে যুক্ত হয়। সার্ক শীর্ষ সম্মেলন সর্বশেষ হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর আর কোনও শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। তারপর থেকে সার্ক মূলত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এত বছর পর শুক্রবার (৬ মার্চ) আবারও সার্কের দেশগুলো এক টেবিলে বসেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে ইফতার মাহফিলে।
বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতিতে বরাবরই বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রথম’। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতিতে বাংলাদেশ আবারও ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সার্কের ধারণা জিয়াউর রহমান নিয়ে আসেন। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য তার ধারণা নিয়ে চিঠি লেখেন। সেই ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)। সার্ক সচিবালয় ১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নেপালের প্রথিতযশা রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব এটি উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ তিনবার সার্কের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে সার্কের মহাসচিব পদে রয়েছে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েকটি দেশের আঞ্চলিক মতপার্থক্যের কারণে সার্ক ঝিমিয়ে গেছে। মূলত ভারত পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের কারণে সার্ক সচল করা যায়নি।
তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় উদ্যোগ নিয়েছেন সার্ক সচল করার। নির্বাচনের জয়লাভ করার পরই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সার্ক গঠনের উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশের। তার সরকার সার্ককে সক্রিয় করতে চায়। সরকার গঠনের পর তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। অর্থাৎ সার্ক পুনরায় সচল করার বার্তা তিনি দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেই উদ্যোগ দেখা গেলো আজ। কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক টেবিলে ছিলেন সার্কের সদস্য রাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ছিলেন—ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জি, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ধর্মপাল বীরাককোডি এবং তাদের সহধর্মিণীরা।
শীর্ষ সম্মেলন বন্ধ থাকলেও সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের বার্ষিক চাঁদা নিয়মিত পরিশোধ করছে এবং নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতে সার্কের আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে ভারতের আপত্তির কারণে স্থবির হয়ে আছে ইসলামাবাদে অবস্থিত সার্ক এনার্জি সেন্টার।
সার্ক সচল করার বিষয়ে কাজ করছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) কীভাবে গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে সংস্থার মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের কাছে জানতে চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।