দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে দেশজুড়ে তরুণ ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে নতুন ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথমবার ভোট দিতে এসে আবেগাপ্লুত হন নরসিংদী সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিন। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী হাজী সাহেব আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম প্রেমের মতোই অনুভূতি হচ্ছে আজ।
জীবনের এই মুহূর্তটি তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি। তার প্রত্যাশা, এই ভোট দেশের জন্য নতুন সূর্যোদয়ের বার্তা বয়ে আনবে।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা-৩ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই তরুণদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন। কেউ ভিড় এড়াতে সকালে উপস্থিত হয়েছেন, আবার কেউ প্রথম ভোটের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলেছেন।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা তরুণদের কণ্ঠে ছিল সন্তুষ্টি ও আশাবাদ। সজিব চন্দ্র দাস জানান, ঝামেলা ছাড়াই ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। ২১ বছর বয়সী সামিয়া রহমান বলেন, ব্যালট হাতে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন-তার বিশ্বাস, একটি ভোটও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
রাকিবুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের মতামত গুরুত্ব পাবে। কলেজছাত্রী ফারহানা আক্তার জানান, শুরুর নার্ভাসনেস কাটিয়ে সুন্দর পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে। মেহেদী হাসান বলেন, পরিবর্তন চাইলে ভোট দেওয়া জরুরি—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি কেন্দ্রে এসেছেন।
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রথমবারের ভোটাররা নিয়মকানুন জানতে আগ্রহী ছিলেন এবং ধৈর্য সহকারে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে, যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।