মো. শামীউল আলীম শাওন
রাজশাহী, আমাদের "ক্লিন ও গ্রিন সিটি", আজ এক দ্বিমুখী নীরব ঘাতকের কবলে। একদিকে, বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলে থাকা অসংখ্য তারের জঞ্জাল শহরের সৌন্দর্যকে ম্লান করে সৃষ্টি করছে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, তারের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, যা জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেও তার ছিঁড়ে ঘটছে প্রাণহানি। অন্যদিকে, আধুনিক সভ্যতার বিষাক্ত উপহার, ই-বর্জ্যের স্তূপ, পরিণত হয়েছে এক নীরব ঘাতকে। মোবাইল, কম্পিউটার, ফ্রিজের মতো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী থেকে নিঃসৃত সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসকে দূষিত করছে, যা ডেকে আনছে শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শিশুরা এর বিষাক্ত প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, এই ভয়াবহ সমস্যাগুলো নিরসনে আইনের অভাব নেই, অভাব শুধু এর প্রয়োগের। বিদ্যুৎ আইন, টেলিযোগাযোগ আইন এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা সবই আছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, বিটিআরসি, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি, সিটি কর্পোরেশন—কেউই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না, যার ফলে জনগণ ভুগছে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল নেটওয়ার্ক স্থাপন (সিলেটের মতো), উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (EPR) নিশ্চিতকরণ, এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি।
রাজশাহী তারবিহীন এবং বিষমুক্ত হবে—এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আর কোনো অজুহাত নয়! সরকার, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও সচিব মহোদয়দের কাছে আমাদের জোর দাবি, জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও নগর উন্নয়নের এই গুরুতর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হোক। এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই! এক মুহূর্তও দেরি করার সুযোগ নেই!
- লেখক ও উন্নয়নকর্মী
