বাংলাদেশ যখন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ নির্মাণের চূড়ান্ত লগ্ন পার করছে, তখন নাগরিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরিহাসের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে মানিব্যাগে জমে থাকা একগুচ্ছ প্লাস্টিক কার্ড আর ফাইলের ভেতরে বন্দি কাগজের স্তূপ। আধুনিক মাইক্রোচিপ-সম্বলিত এনআইডি (NID) থাকার পরেও কেন একজন নাগরিককে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কিংবা ওএমএস কার্ড আলাদাভাবে বহন করতে হবে? এই সংকট কেবল কারিগরি অদক্ষতা নয়; এটি একটি গভীরতর প্রশাসনিক ব্যাধি। একে আমি বলছি ‘ডিজিটাল সামন্তবাদ’। যেখানে তথ্যই বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতার উৎস, সেখানে নাগরিক সেবা সহজ করার চেয়ে দপ্তরগুলোর নিজস্ব আধিপত্য ও তথ্যের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
| প্রকিউরমেন্ট ইকোনমি ও তথ্যের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ : |
পেপারলেস সার্ভিস ও পরিবেশ সুরক্ষার অঙ্গীকার :
|
নিরাপত্তার আধুনিক সমাধান: ব্লকচেইন ও জিরো-নলেজ প্রুফ :
|
স্মার্ট উত্তরণের পঞ্চমুখী রূপরেখা :
|
- একীভূত আইডি: জন্মনিবন্ধন থেকে পাসপোর্ট পর্যন্ত সব সেবার জন্য একটি অভিন্ন ডিজিটাল আইডি কাঠামো গড়ে তোলা।
- নিরাপদ তথ্য বিনিময়: দপ্তরগুলোর মধ্যে তথ্যের আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা যেন নাগরিককে বারবার তথ্য দিতে না হয়।
- ডিজিটাল ওয়ালেট : প্লাস্টিক কার্ডের বোঝা কমিয়ে স্মার্টফোনে কিউআর কোড ভিত্তিক পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা।
- সত্যায়ন প্রথার বিলোপ: ডিজিটাল সিগনেচার ও ভেরিফিকেশনকে আইনি ভিত্তি দিয়ে কাগজের ফাইল জমার সংস্কৃতি বন্ধ করা।
- ওন্স-অনলি পলিসি: নাগরিক থেকে জীবনে একবারই তথ্য নেওয়ার জাতীয় নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
উপসংহার
প্লাস্টিক ও কাগজের পাহাড় সরিয়ে এবং জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি-র মধ্যে একটি অভিন্ন ডাটাবেজ তৈরি করে যখন আমরা সব সেবা একটি কিউআর কোড বা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারব, তখনই নাগরিক জীবনের প্রকৃত মুক্তি আসবে। স্মার্ট বাংলাদেশ মানে কেবল ডিভাইসের আধিক্য নয়; স্মার্ট বাংলাদেশ মানে হলো একটি ঝামেলামুক্ত, সমন্বিত এবং পরিবেশবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কৃতি। এখন সময় এসেছে এই ডিজিটাল সামন্তবাদ ভেঙে একটি স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও টেকসই রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার। যেখানে নাগরিক সেবার মূল কেন্দ্রে থাকবে মানুষ, কোনো প্লাস্টিক কার্ড বা কাগজের ফাইল নয়।
| লেখক পরিচিতি : |
| মো. শামীউল আলীম শাওন |
| শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত অধিকার ও উন্নয়নকর্মী। |
