সর্বশেষ
বিরোধী দল দমনে দুদক ব্যবহারের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের মীর কাসেমের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: ডা. শফিক দুই দশক পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত মির্জা আব্বাস জামায়াত আমিরের কাছে ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস রামেকের অনিয়ম ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি তানজিদ শুধু বগুড়ার নয়, বাংলাদেশের ছেলে: প্রধানমন্ত্রী অনুকূল পরিবেশ ছাড়া ভারত সফর নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তফসিল স্থগিতের রিট, যা বললেন ইসি সচিব সাইবার সুরক্ষা ও আইসিটি খাতে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়া কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন
প্রচ্ছদ / সারাদেশ
সারাদেশ

পবা উপজেলায় ভন্ড পীর ফকিরদের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

পবা উপজেলায় ভন্ড পীর ফকিরদের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ভন্ড পীর-ফকিরদের সমাজ ও শরীয়তবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে উলামায়ে কেরাম ও মুসল্লীবৃন্দ। 

শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলার বায়া বাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমরান উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল বের হয়। মিছিলটি বায়া বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এ সময় মুসল্লীরা স্লোগান দেন— “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর”, “ভন্ড পীরের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী সব ভুয়া মাজারের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে”।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমরান উদ্দীন বলেন, “বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজ ভান্ডারী গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’-এর আড়ালে গাঁজার আড্ডা বসানো হতো। এ খবর পেয়ে দেড় শতাধিক তৌহিদী জনতা সেখানে গিয়ে তা ভেঙে দেয়। আমরা মসজিদ বা মাজারের বিরুদ্ধে নই, তবে যেখানে অপকর্ম হবে, সেখানেই প্রতিবাদ জানানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে ভন্ড পীরদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলে নিরপরাধ আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, যেন আলেম-ওলামাদের হয়রানি করা না হয়।”

প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মুসল্লীরা জানান, ভবিষ্যতেও শরীয়তবিরোধী যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামবেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তবে তৌহিদী জনতা বাধ্য হয়ে কঠোর আন্দোলনে নামবে। ইসলামকে কলুষিত করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত।”

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দারুন উলুম আন নাজমুস সাকিব মাদ্রাসার পরিচালক আবু জাফর। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভন্ড পীর-ফকিররা ইসলামের নামে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কুসংস্কার ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সরাসরি ঈমান-আক্বিদার উপর আঘাত। প্রকৃত ইসলাম শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। অথচ এরা ইসলামকে কলঙ্কিত করে সমাজে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই—ইসলামে কোনো ভ্রান্ত মতবাদ বা কুসংস্কারের স্থান নেই। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও মাদকাসক্তি বৃদ্ধির পেছনে এসব ভন্ড আস্তানার বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা গোপনে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসায়, আবার প্রকাশ্যে ধর্মের দোহাই দেয়। মুসল্লীরা আজ মাঠে নেমেছে এ কারণেই।”

আবু জাফর বলেন, “আজকের এই মানববন্ধন থেকে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই—পবা উপজেলাসহ দেশের সব অঞ্চলে ভন্ড পীর-ফকিরদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, যুব সমাজ ইসলামি আদর্শে গড়ে উঠুক।”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- বড়গাছী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার গোলাম মোস্তফা ও মাদানী মাদ্রাসার প্রধান হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

সম্পর্কিত খবর