সর্বশেষ
বিরোধী দল দমনে দুদক ব্যবহারের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের মীর কাসেমের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: ডা. শফিক দুই দশক পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত মির্জা আব্বাস জামায়াত আমিরের কাছে ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যা সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস রামেকের অনিয়ম ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি তানজিদ শুধু বগুড়ার নয়, বাংলাদেশের ছেলে: প্রধানমন্ত্রী অনুকূল পরিবেশ ছাড়া ভারত সফর নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তফসিল স্থগিতের রিট, যা বললেন ইসি সচিব সাইবার সুরক্ষা ও আইসিটি খাতে একসাথে কাজ করবে বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়া কিশোরগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন
প্রচ্ছদ / আইন আদালত
আইন আদালত

সাত মাস অফিস না করেও আওয়ামী লীগ নেতা চাকরিতে বহাল

সাত মাস অফিস না করেও আওয়ামী লীগ নেতা চাকরিতে বহাল

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দীর্ঘ সাত মাস অফিস না করেও চাকরিতে বহাল রয়েছে এক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা। তার নাম আরিফুল ইসলাম ওরফে ইমরান হাসান আরিফ। সে ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় প্রধান সহকারী পদে চাকরি করেন। আরিফ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে সে পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এলাকা থেকে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ। এরপর তিনি গত ১৫ আগস্ট গোপনে এক মাসের চিকিৎসা ছুটি নেন মেয়র আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে। সে ছুটি শেষ হলে ১৫ সেপ্টেম্বর আরও তিন মাস ছুটি বাড়িয়ে নিতে গোপনে পৌরসভায় হাজির হন। বর্তমান পৌর প্রশাসক তাসমিয়া আক্তার রোজী তাকে তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর করলে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এখনও তিনি চাকরিতে বহাল রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

স্থানীয়রা জানান, আরিফ সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেনের আস্থাভাজন ছিলেন। তিনি ২০১২ সালে ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় ভান্ডার রক্ষক পদে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে তিনি পৌরসভার প্রধান সহকারী পদে পদোন্নতি পান।

এলাকায় আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার একজন কর্মচারী হয়ে উপজেলার সকল ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। প্রায় কোটি টাকা খরচ করে গড়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। গড়ে তুলেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর তার এসব কাজের সহযোগী ছিলেন সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের ছোট ছেলে ইবনুল হাসান শাকিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় আরিফ কখনো অফিস করতেন না। তিনি সব সময় দলীয় কর্মকাণ্ড ও ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। মাস শেষে অফিসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন নিয়ে যেতেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সরদার জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক রয়েছেন। শুনেছি, এর মধ্যে গোপনে এসে চিকিৎসা ছুটি নিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ সাত মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে কিভাবে তিনি চাকরিতে বহাল থাকেন । তিনি চাকরি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এদিকে পলাতক থাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক তাসমিয়া আক্তার রোজী জানান, তার চিকিৎসা ছুটি শেষ হওয়ার পর চাকরিতে যোগদান করার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এরপরও তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। ফের তিনি বিনা বেতনে ছুটির জন্য মেইলে আবেদন করেছেন। তবে তাকে আর ছুটি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ইতোমধ্যে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর