বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
রাজশাহীর রিকশাচালক হত্যা

আসামিরা প্রকাশ্যেই, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

স্বপ্নের বাংলাদেশ বার্তাকক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার

published: 19 March, 2025, 08:12 PM

আসামিরা প্রকাশ্যেই, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
রাজশাহীর রিকশাচালক হত্যা মামলার আসামি মীর তারেক (বাঁ থেকে), সুমন সরদার, ফাইজুর হক, মো. নাঈম ও সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর রিকশাচালক গোলাম হোসেন (৪৮) হত্যা মামলার আসামিরা অনেকটা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ আবার বন্ধুর জন্মদিনে কেক কাটছেন, ফেসবুকে ছবিও দিচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না। তাই মামলা হওয়ার পাঁচদিনেও কেউ গ্রেপ্তার হননি। এখন বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে নিহত রিকশাচালক গোলাম হোসেনের পরিবার।

রিকশাচালক গোলাম হোসেন খুনের আসামিরা হলেন- নগরের শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহবায়ক সুমন সরদার, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহবায়ক ফাইজুর হক ফাহি, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মীর তারেক, রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক লাভলী খাতুনের স্বামী সোহেল রানা, লাভলীর ভাই মো. নাঈম এবং যুবদল কর্মী রনি।

গত ৬ মার্চ নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতার ফ্ল্যাটে অভিযান ও তার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরদিন সন্ধ্যায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। দড়িখড়বোনা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, গুলি ফোটে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তিনটি মোটরসাইকেলও।

ওই রাতে মহাজনের রিকশা জমা করে রণক্ষেত্রের ভেতর দিয়ে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন গোলাম হোসেন। তখনই একপক্ষ আরেক পক্ষের লোক ভেবে রিকশাচালক গোলামকে ছুরিকাঘাত করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ মার্চ রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ১৩ মার্চ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫-১৬ জনকে আসামি করে নগরের বোয়ালিয়া থানা মামলা করেন গোলাম হোসেনের স্ত্রী পরিবানু বেগম।

গোলাম হোসেন থাকতেন নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায় রেললাইনের পাশে। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে ছোট্ট একটা টিনের ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন গোলাম হোসেন। স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়েছেন পরিবানু। মেয়ের কাছে এসেছেন তার মা।


পরিবানু বললেন, ‘কেস তো করেছি, কিন্তু এখনও কোনো আসামি ধরা পড়েনি। আসলেই আসামিরা ধরা পড়বে কি না তা জানি না। আমি একা কেস কতটুকু চালাতে পারব সেটাও জানি না।’

তিনি জানান, স্বামী হত্যার পরও এখনও পর্যন্ত বিএনপির কোনো বড় নেতা তার খোঁজ নেননি। তবে এলাকার কিছু নেতা তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। মামলা না চালিয়ে তার চলার জন্য ‘কিছু একটা করে’ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই মামলার আসামি সুমন সরদারের বিরুদ্ধে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জমি ও পুকুর দখল এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তার ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, সোমবার তিনি নগরের রাজপাড়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাসান শিশিরের জন্মদিনে অংশ নিয়ে কেক কেটেছেন। সেই ছবিও পোস্ট করেছেন ফেসবুকে।

গত রোববার সুমন সরদার মামলার আরেক আসামি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মীর তারেকের সঙ্গে একটি সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ক্যাপসনে লিখেছেন, ‘মিলনে যেনো প্রিয় বিরহ সমাসন্ন আধাঁর আছে বলেই প্রভাত আলোয় ধন্য’। মোমিনুল ইসলাম আতিফ নামের একজন সুমন সরদারের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন মামলা হওয়ার পরদিন।

আতিফ লেখেন, ‘কমিটি পাওয়ার সাথে সাথে রাত ১টায় মিষ্টি খাওয়ায় আয়োজন। হঠাৎই সুমন ভাইয়ের ফোন এবং আমাদের সাথে যোগদান করে আরো আনন্দময় মুহূর্তটা বাড়িয়ে দেয়।’ এছাড়া সুমন সরদার দলীয় কয়েকটি কর্মসূচির লাইভ ভিডিও শেয়ার করেছেন নিজের ফেসবুকে।

মামলার আরেক আসামি নগরের চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহবায়ক ফাইজুর হক ফাহির ফেসবুকে গিয়ে দেখা গেছে, সোমবার তিনি চন্দ্রিমা থানা বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। সেই ছবি ট্যাগ করা হয়েছে ফাইজুল হক ফাহির ফেসবুক আইডিতে।

পুলিশ প্রভাবশালী মহিলাদল নেত্রী লাভলী খাতুনের স্বামী সোহেল রানা ও লাভলীর ভাই মো. নাঈমেরও খোঁজ পায়নি। নাগাল পাওয়া যায়নি আরেক যুবদলকর্মী মো. রনিরও। তারাও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

এ মামলার একজন আসামিও গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর বাদীর আর কিছু করার নেই। এখন আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশেরই দায়িত্ববোধ আছে।’

তিনি বলেন, ‘যদি আসামিরা এলাকাতেই থাকে এবং গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে আমি থানা-পুলিশকে বলে দেব তৎপর হওয়ার জন্য। সাধারণ মানুষও কিন্তু এলাকায় তাদের দেখলে আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। পুলিশকে সহায়তা করা নাগরিকদেরও দায়িত্ব।’

National